Monday, August 15, 2022

আজ জনপ্রিয় সঙ্গীতজ্ঞ ‘আশিকউজ্জামান টুলু’র শুভ জন্মদিন…

“তুমি আমার প্রথম সকাল
একাকী বিকেল ক্লান্ত দুপুর বেলা,
তুমি আমার সারাদিন আমার
তুমি আমার সারাবেলা।”

নব্বই দশকের চিরসবুজ কালজয়ী গান ‘তুমি আমার প্রথম সকাল’ এই গানের মাধ্যমেই বাংলাদেশের প্রথম দ্বৈত অডিও গান প্রকাশ হয়। লতিফুল ইসলাম শিবলীর লেখায় এই বিখ্যাত গানটির সুরকার আশিকুজ্জামান টুলু।
নব্বই দশকের পুরো সময়টা জুড়ে বাংলা সঙ্গীতের শাখা প্রশাখায় জরিয়ে ছিলেন তিনি নিয়মিত।
গান লেখা থেকে শুরু করে সুরকার এবং গায়কীর মাধ্যমে সবাইকে মুগ্ধ করেন। নিজের প্রচেষ্টায় আধুনিক গানের অনেক শিল্পী এবং গান স্বপ্নময়ী মানুষকে তার গন্তব্যে পৌছিয়ে দেন তিনি।

উনার শিকড়ই ছিলো সুরে ঘেরা, বাবা ছিলো বিখ্যাত সঙ্গীত সাধক ওস্তাদ মুন্সী রাইস উদ্দিন। সেই ছোট্টবেলা বাবা ওস্তাদ মুন্সী রইস উদ্দিনের কাছে যখন ফেরদৌসি রহমান, আব্দুল আলীমের মতো গুণী শিষ্যরা এসে তালিম নিতেন, তখন নিতান্তই ছোট্ট বালক তিনি। সঙ্গীতের তেমন কিছু না বুঝলেও খেলাধুলার মাঝেই বাবার সুর লহর মনের ভেতর চলে যেত তাঁর। সেই অর্থে সংগীতজ্ঞ বাবার কাছ থেকে হাতেখড়ি না হলেও মনেখড়ি যে হয়েছিল তা তো বলাই যায়।
১৯৭৩ সালে প্রিয় বাবার মৃত্যুর পর উদীচীতে যাওয়া বড় ভাইয়ের সঙ্গে কখনো তবলা, কখনো বঙ্গ বাজিয়েছেন। অতঃপর ধীরে ধীরে সময়ের স্রোতে যখন তিনি বালক থেকে কিশোর, কিশোর থেকে যুবক হয়ে উঠছেন তখন ড্রাম, গিটার, কীবোর্ড এসব যন্ত্র সঙ্গী হয়ে উঠতে থাকে তাঁর। আর এভাবেই তিনি হয়ে ওঠেন একাধিক সঙ্গীতযন্ত্র বাদনে পারদর্শী। এরপর ‘চাইম’, কিছুদিন পর ‘আর্ক ব্যান্ডে’র কাণ্ডারি হয়ে ওঠেন তিনি – নাম আশিকুজ্জামান টুলু। ব্যান্ড এর কিংবদন্তী গায়ক হাসানকে তিনিই গড়ে তোলেন, হাসানসহ এমন অনেককেই তিনি সঙ্গীতের প্রেরণার মাধ্যমে পথ তৈরি করে দেন।
আজ আশিকুজ্জামান টুলুর জন্মদিন।
এই জন্মদিনে ভালোবাসা সহ শুভকামনা জানাই।
তার নিজের গানের মতোই ‘এই দুর পরবাসে তারা গুনি আকাশে আকাশে- কাটে নিসঙ্গ রাত্রিগুলি’ এই গানের মতোই তিনি এখন দুরে। কিন্তু আমরা কেউ ভুলিনি তাকে মন এখনো ডাকে, আপনি সব সময়ই গাানের জগতে বিচরণ করুন।
নব্বই দশকের অনেক কালজয়ী গানের স্রষ্টা তিনি। আর এ কারণেই এখনো উনার নাম ভুলতে পারেনি এ দেশের সঙ্গীতাঙ্গন। তিনি যেমন পশ্চিমা ধাঁচের ও রক গানের জন্য সুর করেছেন, ঠিক তেমনি রাগাশ্রয়ী সুরও করেছেন, এতে বাংলা গান হয়েছে ঋদ্ধ।
চাইম ও আর্ক ব্যান্ডের অভিভাবক দেশ ছেড়ে পাড়ি জমান কানাডায়। তাঁকে আজও ভোলেননি সঙ্গীতপ্রেমী ভক্তরা। না ভোলার কারণ তাঁর অসাধারণ সব গান, সে হোক আধুনিক কি ব্যান্ডসঙ্গীত। আপনার প্রতি ভালোবাসা এবং সুরপ্রেম আজীবন।

Related Articles

Leave a reply

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

18,780FansLike
700SubscribersSubscribe
- Advertisement -

Latest Articles