Sunday, November 27, 2022

প্রখ্যাত উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত শিল্পী ওস্তাদ আয়েত আলী খাঁ এর আজ মৃত্যুবার্ষিকী…

– মোঃ মোশারফ হোসেন মুন্না।

উপমহাদেশের প্রখ্যাত উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতশিল্পী, সেতার ও সুরবাহার বাদক ওস্তাদ আয়েত আলী খাঁ। তিনি মাইহার ও রামপুর রাজ্যের রাজসঙ্গীতজ্ঞ হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। যন্ত্র ও উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতে অবদানের জন্য তিনি ১৯৬১ সালে পাকিস্তান সরকারের ‘তমঘা-ই-ইমতিয়াজ’ খেতাব, ১৯৭৬ সালে মরণোত্তর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি পুরস্কার এবং ১৯৮৪ সালে মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত হন। আয়েত আলী ১৮৮৪ সালের ২৬ এপ্রিল ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির বর্তমান বাংলাদেশে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার শিবপুর গ্রামের এক সঙ্গীত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা সবদর হোসেন খাঁ ছিলেন একজন সঙ্গীতজ্ঞ। তাঁর বড় দুই ভাই ফকির আফতাবউদ্দিন খাঁ ও ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ উপমহাদেশের প্রখ্যাত সঙ্গীত ব্যক্তিত্ব। জানা যায় দশ বছর বয়সে তিনি তার বড় ভাই ফকির আফতাবউদ্দিন খাঁর নিকট সঙ্গীতের তালিম গ্রহণ করা শুরু করেন। সাত বছর তার কাছে সরগম ও রাগ-রাগিণীর তালিম গ্রহণের পর তিনি মাইহারে তার আরেক বড় ভাই আলাউদ্দিন খাঁ’র নিকট চলে যান। সেখানে তিনি সেতার ও সুরবাহারের তালিম নেন। পরে আলাউদ্দিন খাঁ তাঁকে রামপুরে তার গুরু ওয়াজির খাঁর নিকট পাঠান। সেখানে তিনি ১৩ বছর সঙ্গীত সাধনা করেন। সঙ্গীতে শিক্ষাগ্রহণ শেষে তিনি মাইহার রাজ্যের সভাবাদক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। তার স্থান হয় তার ভাই আলাউদ্দিন খাঁর পাশেই। তারা দু’জনে মিলে সেখানে ঐকতান-বাদকদল গঠন করেন। পরে তিনি রামপুরের রাজদরবারেও সভাবাদক হিসেবে অধিষ্ঠিত হন। ১৯৩৫ সালের মে মাসে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আহ্বানে তিনি শান্তিনিকেতনে যান। সেখানে তিনি বিশ্বভারতীর যন্ত্রসঙ্গীত বিভাগের প্রধানের পদে যোগ দেন। কিন্তু শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি দেশে ফিরে আসেন এবং বাকি জীবন সঙ্গীতে মগ্ন থাকেন।

আয়েত আলী খাঁ’র ছয় ছেলে তিন মেয়ে। ছেলেদের নাম হলো – ওস্তাদ আবেদ হোসেন খান, ওস্তাদ বাহাদুর হোসেন খান, সঙ্গীত গবেষক ও লেখক মোবারক হোসেন খান, সংগীত পরিচালক শেখ সাদী খান, তানসেন খান এবং বিটোফেন খান। তিন কন্যা আম্বিয়া, কোহিনূর, ও রাজিয়া।

তার জীবনে যে সব সম্মাননায় ভূষিত হন, ১৯৬০ সালে ‘গভর্নর পদক’, ১৯৬১ সালে পাকিস্তান সরকারের ‘তমঘা-ই-ইমতিয়াজ’ খেতাব, ১৯৬৬ সালে রাষ্ট্রীয় পুরস্কার প্রাইড অব পারফরম্যান্স, ১৯৭৬ সালে মরণোত্তর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি পুরস্কার, উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতে অবদানের জন্য ১৯৮৪ সালে মরণোত্তর স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার। ১৯৬৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর তিনি পৃথিবীর মায়া ছেড়ে চলে যান না ফেরার দেশে। আজ তার ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী।
সঙ্গীতাঙ্গন এর পক্ষ থেকে তার রুহের মাঘফেরাত কামনা করি।

Related Articles

Leave a reply

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

18,780FansLike
700SubscribersSubscribe
- Advertisement -

Latest Articles