বিশ্ব মাতানো জ্যাকসন স্মরণে…

– সুব্রত মণ্ডল সৃজন।

জ্যাকসন’ কথাটা শুনলেই আপনার মনে কার কথা উদয় হয় ? নিশ্চয় মাইকেল জ্যাকসন। হ্যাঁ, সংগীত জগতে যার অবদান অনস্বীকার্য। কমবেশি তার সম্পর্কে আমরা অনেকেই জানি।
তারপরেও তার সম্পর্কে অনেক তথ্যই আছে যা আমরা হয়তো জানি না।

আজ ২৫শে জুন। আর এই ২৫শে জুন ২০০৯ সালে ৫০ বছর বয়সে এই পপ সম্রাট মাইকেল জ্যাকসন মৃত্যুবরণ করেন। যদিও তিনি দেহ ধরে এই পৃথিবীতে নেই তবুও তিনি আছেন তার সকল ভক্তের হৃদয়ে। তার নাম আজ বিশ্বজুড়ে।

আজ তার মৃত্যুদিবসে সঙ্গীতাঙ্গন এর পক্ষ থেকে গভীরভাবে স্মরণ করছি এই পপ সম্রাটকে এবং তার সম্পর্কে কিছু তথ্য তুলে ধরে তাকে শ্রদ্ধাঞ্জলি ও ভালোবাসা নিবেদন করছি।

প্রথমেই বলে নেই, আমরা যাকে ‘মাইকেল জ্যাকসন’ নামেই জানি তার পুরো নামটা হল ‘মাইকেল জোসেফ জ্যাকসন’। ২৯ আগস্ট, ১৯৫৮ সালে জন্ম নেয়া এই মার্কিন কিংবদন্তী একজন সঙ্গীতশিল্পী, নৃত্যশিল্পী, গীতিকার, অভিনেতা, সমাজসেবক এবং ব্যবসায়ী ।

১০ ভাই-বোনের মধ্যে অষ্টম ছিলেন মাইকেল জ্যাকসন। অবশ্য তার যমজ দুই ভাই জন্মের কিছুক্ষণ পরই মৃত্যুবরণ করেছিলেন। শৈশবে ভাই-বোনদের সঙ্গে দুরন্তপনা করেই কেটেছে জ্যাকসনের সময়।

খাবারের বিষয়ে বলতে গেলে, মাইকেল জ্যাকসন ছিলেন নিরামিষাশী। শাকসবজি ও ফলমূল খেয়ে থাকতেন তিনি।

পৃথিবীর ইতিহাসের সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং সবচেয়ে বহুল বিক্রিত এ্যালবামের সঙ্গীত শিল্পীদের তিনি অন্যতম। মাত্র পাঁচ বছর বয়স থেকে তিনি সঙ্গীত জগতের পেশাদার সঙ্গীত শিল্পী হিসাবে আত্মপ্রকাশ করেন এবং একজন উজ্জল তারকা হয়ে ওঠেন।

আরেকটা অবাক করা বিষয় হলো, অক্সিজেন চেম্বারে ঘুমাতেন মাইকেল জ্যাকসন। সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু পাওয়ার জন্য তিনি এ পন্থা বেছে নিয়েছিলেন। একবার তিনি দাবি করেছিলেন, অক্সিজেন চেম্বারে ঘুমানোর জন্য অন্তত ১৫০ বছর বাঁচবেন তিনি। কিন্তু নিয়তি যে কারো দাবি মানে না!

এখন আসি মাইকেলের সঙ্গীতে-
জ্যাকসনের গাওয়া ৫টি সঙ্গীত এ্যালবাম বিশ্বের সর্বাধিক বিক্রিত রেকর্ডের মধ্যে রয়েছে। তা হলো-
১. অফ দ্য ওয়াল (১৯৭৯),
২. থ্রিলার (১৯৮২),
৩. ব্যাড (১৯৮৭),
৪. ডেঞ্জারাস (১৯৯১) এবং
৫. হিস্টরি (১৯৯৫)।
সঙ্গীতে অবদানের জন্য তাকে ‘পপ সঙ্গীতের রাজা’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।

১৯৯৭ সালে এক জরিপে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব নির্বাচিত হয়েছিলেন এই কিংবদন্তী জ্যাকসন।

২০০১ সালে মাইকেল রিলিজ করে ‘ইনভিন্সিবল’, তার জীবনের ১০ম ও সর্বশেষ স্টুডিও এ্যালবাম। জ্যাকসন হচ্ছে এই পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি এ্যাওয়ার্ড ও নোমিনেশন পাওয়া তারকা।

‘গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড’ তাকে বিশ্বরেকর্ড এ ভুষিত করেছে বিনোদন জগতের মানুষ হিসেবে সবচেয়ে বেশি দান করবার জন্যে এবং তার দানকৃত অর্থের পরিমাণ ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি।

তার মৃত্যুতে সারা পৃথিবীতে আলোড়ন পরে যায়। তার মৃত্যুর ফলে পৃথিবীর ইন্টারনেট ব্যাবস্থা এক প্রকার ভেঙে পড়ে। কারণ “মাইকেল জ্যাকসন” শব্দটি এত বেশি যা মিলিয়ন মিলিয়ন ইনপুট হবার কারণে প্রায় ৩০ মিনিট গুগল বন্ধ রাখে এবং উইকিপিডিয়াতে ১ ঘণ্টার মধ্যে ১২ লাখেরও বেশি মানুষ মাইকেলের বায়োগ্রাফি দেখে। আর এই চাপ উইকিপিডিয়া লোড নিতে একপ্রকার অক্ষম হয়ে পড়ে। যা ইতিহাসে এরকম ঘটনা এই প্রথম ঘটে।

আরো জানা যায়, তার শেষকৃত্যানুষ্ঠান পৃথিবীর ৩০০ কোটিরও বেশি মানুষ সরাসরি টেলিভিশন ও অনলাইনে দেখে, যা এই পর্যন্ত সর্বোচ্চ কারো শেষকৃত্যানুষ্ঠান দেখা হয়েছে।

বলা যায়, মাইকেল জ্যাকসনের জীবন ছিল খুবই বিলাসিতায় পূর্ণ এবং বৈচিত্র্যময়! তার জীবন জুড়ে রয়েছে বহু ঘটনা। যা আমাদের একাধারে আনন্দ দেয় এবং ভাবনার জগতে প্রবেশ করায়! যা তার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে আবারো প্রমাণিত হয় যে তিনি সত্যিই একজন ভিন্নধর্মী ব্যক্তিত্ব নিয়ে জীবন অতিবাহিত করেছেন এবং বিশ্ববাসীকে দিয়েছেন তার সমগ্র জীবনটাকেই উপহার!

Related Articles

Leave a reply

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -

Latest Articles