Friday, August 19, 2022

এবি-র মিলাদ মাহফিল…

– মরিয়ম ইয়াসমিন মৌমিতা।

ক’দিন আগেও এবি কিচেন গিটারের সুরে মুখরিত থাকতো। নতুন নতুন সৃষ্টির নেশায় এখানেই দিন-রাত সময় ব্যয় করতেন রূপালি গিটারে জাদুকর। কিন্তু এখন যেন প্রাণহীন নিঃসঙ্গ হয়ে আছে গানের এই রান্নাঘর। সদ্য প্রয়াত কিংবদন্তি শিল্পী আইয়ুব বাচ্চুর স্টুডিও এটি। সঙ্গীতাঙ্গনের মানুষরা বলতেন, গানের রান্না হয় এই কিচেনে। হতোও তাই। মগবাজারে অবস্থিত আইয়ুব বাচ্চুর এই এবি কিচেন। বহু বছর আগেই এখানে স্টুডিওটি করে ছিলেন
রূপালি গিটারের এ বাদক। তার সব কালজয়ী গানের সাক্ষী বহন করে চলেছে স্টুডিওটি। অথচ সেই আইয়ুব বাচ্চুই এখন আর নেই এবি কিচেনে। স্টুডিওটি তাই যেন নিথর-প্রাণহীন হয়ে আছে। শোক পালন করছে কর্তার প্রয়াত হওয়ায়। এই এবি কিচেনেই রবিবার বাদ মাগরিব আয়োজন করা হয় দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের। এবি কিচেন সংলগ্ন মসজিদে এই আয়োজন করেন এলআরবির সকল সদস্য ও আইয়ুব বাচ্চুর পরিবার।

দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গীতিকার প্রিন্স মাহমুদ, কন্ঠশিল্পী আসিফ আকবর, মেহরীন, হাসান আবিদুর রহমান জুয়েলসহ আইয়ুব বাচ্চুর বন্ধুরা ও সহকর্মীরা। দোয়া মাহফিলে আরও ছিলেন এলআরবির বাকি সদস্যরা। ছিলেন আইয়ুব বাচ্চুর ছেলে তাজওয়ার, মেয়ে সাফরাসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও।
এসময় ছেলে মেয়ে দুজনেই সবার কাছে বাবার জন্য দোয়া চান। ছেলে তাজওয়ার বলেন, গানে ও সুরে বাবাকে সবাই যেমন বুকে রেখেছেন, তেমনি রাখবেন সবসময়। এমনকি বাবার প্রতি কারো কোনো বিদ্বেষ, ক্ষোভ থাকলে ক্ষমা করে দেয়ারও আহ্বান জানান আইয়ুব বাচ্চুর ছেলে-মেয়ে। দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের পর এলআরবির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘এলআরবি’ নিয়ে আইয়ুব বাচ্চুর যে স্বপ্ন ছিলো সেই স্বপ্ন পূরণেই কাজ করবে দলটি। এই
মিলাদ মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন দেশের আরেক জনপ্রিয় সঙ্গীত শিল্পী এস আই টুটুল। বাচ্চুর সাথে কিবোর্ড বাজাতেন এসআই টুটুল। এলআরবি ব্যান্ডের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন তিনি। কিন্তু ২০০৪-০৫ সালে এলআরবি থেকে বেরিয়ে নিজেই একটি ব্যান্ড গঠন করেন নাম দেন ‘এফটুএফ’ যার অর্থ ফেইস টু ফেইস। এই ব্যান্ডের প্রথম এ্যালবাম ‘ধ্রুবতারা’ তুমুল হিট হয়।

এলআরবি ছিল টুটুলের সঙ্গীত জীবনের পীঠস্থান। এলআরবি’র জনপ্রিয় গানগুলোর একটি ‘শেষ চিঠি’ যা এসএই টুটুলের গাওয়া। টুটুল ও এলআরবির পথ আলাদা হয়ে গেলেও আইয়ুব বাচ্চুর জন্য ভালোবাসা কমেনি তার।
সেদিন সন্ধ্যায় আইয়ুব বাচ্চুর স্টুডিও এবি কিচেনে স্ত্রী তানিয়াকে নিয়ে উপস্থিত হয়েছিলেন টুটুল। ১৪ বছর পর আইয়ুব বাচ্চুর স্টুডিওতে আসেন তিনি।
আইয়ুব বাচ্চুর পরিবারের আয়োজনে এবি কিচেনে মিলাদ মাহফিলের আয়োজনে উপস্থিত হন তিনি। টুটুল উপস্থিত হয়ে সাংবাদিকদের বলেন, আমার একজন জন্মদাতা বাবা আছেন যিনি আমাকে এই পৃথিবীতে এনেছেন। কিন্ত আমার আরেকজন বাবা ছিলেন আইয়ুব বাচ্চু যিনি আমাকে মিউজিকের জগতে জন্ম দিয়েছেন। তার ছাঁয়া না পেলে, তার আশ্রয়-স্নেহ না পেলে আমি কোনোদিন আজকের টুটুল হতাম না। বাচ্চু ভাইয়ের কাছ থেকে দূরে গিয়েও আমি তার ছাঁয়া কাটাতে পারিনি। লোকে আমাকে এলআরবি’র টুটুল বলেই চিনে এসেছে সবসময়।
এস আই টুটুল আরও বলেন, ‘বাচ্চু ভাই আমার গুরু। তিনি ইমোশনাল একজন মানুষ ছিলেন। এই ইমোশন তাকে অনেক কষ্ট দিয়েছে, তার কাছের মানুষ হিসেবে আমরাও অনেকে অনেক কষ্ট পেয়েছি। কিন্তু সেসবই কেবল মিছে অভিমান। আমি দোয়া করি, আল্লাহ বাচ্চু ভাইকে যেন বেহেস্ত দান করেন। তার মৃত্যুর পর বোঝা যাচ্ছে মিউজিক ইন্ডাস্ট্রির কত বড় জায়গাজুড়ে তিনি ছিলেন। এস আই টুটুল যুক্তরাষ্ট্রে ছিলেন সম্প্রতি আইয়ুব বাচ্চুর
মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর দেশে ফেরেন তিনি।

গত সোমবার মগবাজারস্থ একটি কনভেশন সেন্টারে প্রয়াত কিংবদন্তী গীটার জাদুকর আইয়ুব বাচ্চু’র আত্নার মাগফিরাত কামনায় কুরআন খতম, দোয়া মাহফিল এবং গরীব, দুস্থ ও এতিমদের মাঝে খাবার বিতরণের আয়োজন
করেন চট্টগ্রাম মিউজিশিয়ান ক্লাব, ঢাকা (সিএমসিডি) বন্ধুমহল ও গুণগ্রাহী। উপস্থিত ছিলেন ফুয়াদ নাসের বাবু, সেলিম হায়দার, পার্থ মজুমদার, কুমার বিশ্বজিৎ, মানাম আহমেদ, সুমন, শেখ জসিম, প্রিন্স মাহমুদ ও দেশের
সঙ্গীত অঙ্গনের ব্যক্তিত্বরা। সবাই আইয়ুব বাচ্চু’র জন্য দোয়া করবেন সঙ্গীতাঙ্গন এর পক্ষ থেকে এই আবেদন দেশবাসীর কাছে।

Related Articles

Leave a reply

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

18,780FansLike
700SubscribersSubscribe
- Advertisement -

Latest Articles