– কলকাতা প্রতিনিধি।
কাজী নজরুল ইসলামের বহুল প্রচলিত ছড়া, কবিতার বাইরেও স্বল্পপরিচিত শিশুসাহিত্য নিয়ে কাজ করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে ছায়ানট (কলকাতা)। এ কাজটির প্রসঙ্গে প্রতিষ্ঠানের সভাপতি সোমঋতা মল্লিক বলেন- বর্তমান প্রজন্মের শিশু-কিশোররা একান্নবর্তী পরিবারের সদস্য না হওয়ায় ঠাকুমা কিংবা দিদিমার কণ্ঠে ছড়া, কবিতা শোনার সুযোগ থেকে বঞ্চিত। সেইসব শিশু-কিশোরদের কথা ভেবেই ছায়ানট (কলকাতা)-এর এই বিশেষ উদ্যোগ। এখানে কাজী নজরুল ইসলামের কনিষ্ঠ পুত্রবধূ শ্রীমতী কল্যাণী কাজীকে ঠাকুমা কিংবা দিদিমা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। কল্যাণী কাজী জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী হলেও আমরা তাঁকে বাচিকশিল্পে বিশেষভাবে পাইনি। তাঁর এই উপস্থাপনায় নেই কোনো কৃত্রিমতা কিংবা আতিশয্য। তিনি অতি সহজ-সরল ভঙ্গিমায় আন্তরিকতার সঙ্গে আবৃত্তি করেছেন ছড়া, কবিতাগুলো। তাঁর কণ্ঠে মোট ২৫টি ছড়া, কবিতা ধারণ করা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে -চিঠি, ঘুম পাড়ানী গান, প্রভাতী, কালো জামরে ভাই, শিশু সওগাত, প্রার্থনা, বাংলা মা, খুকুমণি, আঁধারে, ভাই, আর্শীবাদ, পুতুল খেলা,
মাতৃ-বন্দনা, প্রজাপতি, ক্ষমা কর হজরত, আমি যদি বাবা হতাম, নতুন পথিক, ঘুম জাগানো পাখি উল্লেখযোগ্য।
ছায়ানট কলকাতার মহৎ এ কাজে কল্যাণী কাজীর অংশগ্রহণ ছিল স্বতঃস্ফূর্ত। তিনি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত ছড়া, কবিতাগুলো আবৃত্তি করতে গিয়ে স্মৃতি রোমন্থন করেছেন এভাবে-
এই কবিতার কাজটা যে করলাম, এটা আমার কাছে ফিরে পাওয়া। ছোটবেলায় ‘প্রভাতী’ কবিতার মাধ্যমেই বাবাকে (কবি) চেনা। তিনি ছিলেন আমার প্রিয় কবি। আজ সেই প্রিয় কবির কবিতা, ছড়া নিজ কণ্ঠে আবৃত্তি করতে পেরে সত্যিই আমি আনন্দিত ও গর্বিত। এ কাজের মাধ্যমে আমি যেন আবার বাবাকে (কবি) ফিরে পেলাম। সর্বোপরি আমার এ কাজ তখনই সার্থক হবে যখন ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এটাকে গ্রহণ করবে। আমি এ কাজের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের সকল নাতি-নাতনিদের মাঝে বেঁচে থাকতে চাই।
কাজী নজরুল ইসলামের প্রয়াণ দিবস উপলক্ষ্যে আগামীকাল ২৯ আগস্ট ছায়ানট (কলকাতা)-এর উদ্যোগে কোয়েস্ট ওয়ার্ল্ড থেকে প্রকাশিত হবে এই অডিও অ্যালবামটি ‘শিশু কিশোরদের নজরুল’। কণ্ঠে কাজী নজরুল ইসলামের কনিষ্ঠ পুত্রবধূ শ্রীমতী কল্যাণী কাজী, পরিকল্পনা ও পরিচালনায় সোমঋতা মল্লিক, নির্মানে স্বাগত গঙ্গোপাধ্যায়।