Hacklink

Hacklink

Hacklink

Hacklink

Hacklink

Hacklink

Hacklink

Hacklink

Hacklink

Hacklink

Hacklink Panel

Hacklink

Hacklink

Hacklink

Hacklink

Hacklink

Hacklink

Hacklink

Hacklink

Hacklink

Hacklink

Hacklink

Hacklink

Hacklink

Buy Hacklink

Hacklink

Hacklink

Hacklink

Hacklink

Hacklink

Hacklink

Hacklink

Hacklink

Hacklink satın al

Hacklink Panel

Hacklink

adapazarı escort

gavias-theme.com

Hacklink

sakarya escort bayan

sapanca escort bayan

tantra massage in Istanbul

matbet

Hacklink

Hacklink

Hacklink

Hacklink

Hacklink

https://ort.org/signup.php

Hacklink panel

judi bola terbaru

judi bola terbaru

matbet

onwin

pusulabet

tipobet

xnxx

porn

matbet

casibom

matbet

Hacklink satın al

holiganbet güncel giriş

casibom güncel giriş

casibom giriş

casibom güncel giriş

casibom

casibom giriş

casibom son adres

meritking

holiganbet

holiganbet

betebet

deneme bonusu veren yeni siteler

deneme bonusu veren yeni siteler

jojobet giriş

1xbet

serdivan escort

meritking

interbahis

bahislion

bonus veren siteler

News trendline

Artemisbet

Artemisbet

polobet

grandpashabet 7077

royalbet

cratosroyalbet

marsbahis

grandpashabet

radissonbet

pashagaming

casibom giriş

bahiscasino

romabet

casibom giriş

meritking

casibom

casibom

casibom giriş

jojobet giriş

betcio

jojobet

Jojobet güncel giriş

jojobet telegram

Jojobet güncel giriş

hizlicasino

artemisbet

lunabet

marsbahis

nakitbahis

betmoney

hizlicasino

livebahis

meritking

marsbahis

ikimisli

ikimisli

Casibom Güncel Giriş

Casibom Güncel Giriş

Casibom

artemisbet

betkolik

netbahis

betmoney

bahiscasino

netbahis

betlike

ikimisli

padişahbet

fixbet

casibom

casibom güncel giriş

romabet

Nakitbahis

casibom güncel giriş

casibom

casibom

pusulabet giriş

jojobet giriş

lidyabet

giftcardmall/mygift

betnano

sahabet

kalitebet

Marsbahis

justin tv

jojobet

betkolik

casibom

holiganbet

marsbahis

Tarabet TV

Sweet Bonanza Oyna

jojobet giriş

jojobet

sapanca escort

bahiscasino

jojobet güncel giriş

piabellacasino

ikimisli

gameofbet

marsbahis

Hacklink Panel

jojobet

jojobet güncel giriş

casibom giriş

casibom resmi giris

casibom giriş

jojobet

kareasbet

mavibet

casibom

artemisbet

nakitbahis giriş

pusulabet

matbet

nakitbahis giriş

matbet giriş

holiganbet giriş

Hacklink

casibom giriş

sahabet

orisbet

#

holiganbet giriş

holiganbet

vaycasino

casibom

meritking

ultrabet

jojobet

Meritking

meritking

casinofast

eforbet

bahibom

cratosroyalbet

casibom

Hacklink panel

Hacklink panel

betcio

Masal oku

jojobet

padişahbet

betpas

tipobet

portobet

Phet Agency

goldenbahis

holiganbet

meritking

Bets10

Bets10 giriş

galabet

Galabet giriş

ultrabet

nakitbahis

Hacklink Panel

casibom

Masal oku

bets10

meritking giriş

Hacklink panel

Hacklink panel

Illuminati

taraftarium24 izle

meritking güncel giriş

winxbet, winxbet giriş

aresbet

royalbet

Masal Oku

Hacklink panel

betasus

paykwik

izmit escort

casibom

casibom giriş

vaycasino

grandpashabet

savoybetting

canlı maç izle

Hacklink panel

Hacklink Panel

cialis fiyat

Hacklink Panel

viagra sipariş

viagra fiyat

cialis 100 mg

cialis nedir

kulisbet

kulisbet

Hacklink panel

Hacklink panel

Hacklink panel

Hacklink panel

Hacklink panel

Hacklink panel

Hacklink panel

Hacklink panel

Hacklink panel

Hacklink panel

Hacklink panel

Hacklink panel

Hacklink panel

Hacklink panel

Hacklink panel

Hacklink panel

Hacklink panel

Hacklink panel

Hacklink panel

Hacklink panel

Hacklink panel

Hacklink panel

Hacklink panel

Hacklink panel

Hacklink panel

Hacklink panel

Hacklink panel

Hacklink panel

Hacklink panel

Hacklink panel

Hacklink panel

Hacklink panel

Hacklink panel

Hacklink panel

Hacklink panel

Hacklink panel

Hacklink panel

Hacklink panel

Hacklink panel

Hacklink panel

Hacklink panel

Hacklink panel

Hacklink panel

Hacklink panel

meritking

Hacklink panel

Hacklink panel

Hacklink panel

Hacklink panel

gebze escort

gebze escort

izmit escort

izmit escort

kocaeli escort

kocaeli escort

Hacklink panel

Hacklink panel

onwin

interbahis

betebet

betasus

sloto

kulisbet

piabellacasino

casibom giriş

nakitbahis

kalitebet

ikimisli

jojobet

kağıthane escort

sekabet

Beylikdüzü escort

casibom giriş

jojobet giriş

jojobet giriş

jojobet güncel giriş

betcio

meritking

jojobet

jojobet giriş

jojobet güncel giriş

Masal Oku

Best Porn Sites

Free Porn Sites

Free Porn Tubes List

Porn Site List

Porn Site Reviews

Top Porn Sites 2026

sahabet

ibizabet

bahsegel

vaycasino giriş

radissonbet

jojobet

winxbet, winxbet giriş

casinoroyal, casinoroyal giriş

aresbet, aresbet giriş

winxbet

nakitbahis

Marsbahis

Backlink paketleri

Backlink satın al

Backlink paketleri

Backlink satın al

betcup

betnano giriş

casibom

royalbet

nakitbahis

casibom

casibom

casibom

casibom

casibom

casibom

Hacklink panel

Hacklink panel

casibom

Hacklink satın al

casibom

casibom

casibom

winowin giriş

megabahis

ikimisli

Hacklink panel

Hacklink satın al

casino siteleri

kingbetting

cialis

viagra fiyat

cialis 100 mg

viagra

cialis fiyat

wbahis

orisbet

restbet

orisbet

meritking

hititbet

casibom

casibom giriş

casibom

matbet

bahiscasino

grandpashabet

sekabet

romabet

cratosroyalbet

meritking

kingroyal

meritking

meritking

Marsbahis giriş

Marsbahis giriş

kingroyal

marsbahis

cratosroyalbet

meritking

kingroyal

primebahis

interbahis

polobet

Wednesday, February 25, 2026

সঙ্গীত জগত-এর ৫০বছর পূর্তিতে, সঙ্গীত জগতের মানুষের প্রাপ্তি ও অপ্রাপ্তি – ৩য় পর্ব…

– রহমান ফাহমিদা, সহকারী-সম্পাদক।

সঙ্গীত বিষয়ক পত্রিকা সঙ্গীতাঙ্গন-এর কাজই হল সঙ্গীত জগতের বিভিন্ন ক্ষেত্রের মানুষের সুখ-দুঃখ এবং তাঁদের কাজের মূল্যায়ন করা। কাউকে হেয় প্রতিপন্ন করা সঙ্গীতাঙ্গন-এর কাজ নয়! প্রবীণদের কাজগুলি শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করা এবং নবীনদেরকে তাঁদের কাজ নিয়ে উৎসাহিত করাই সঙ্গীতাঙ্গন-এর উদ্দেশ্য। তাই তো সঙ্গীতাঙ্গন শ্রদ্ধা ভরে স্মরণ করে সঙ্গীত জগতের সেই সকল শ্রদ্ধেয় মানুষদের যারা পৃথিবীর মায়া ছেড়ে চলে গেছেন না ফেরার দেশে। অথচ রেখে গেছেন তাঁদের সুনিপুণ কর্ম। সঙ্গীতজগতের বিশিষ্টজনদের জন্মদিনে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাতেও সঙ্গীতাঙ্গন কার্পণ্য করে না। তেমনই কারো শোকদিবসে শোক প্রকাশেও পিছপা হয়না সঙ্গীতাঙ্গন। সর্বদা সঙ্গীত জগতের মানুষদের খোঁজখবর রাখাও সঙ্গীতাঙ্গন-এর একটি লক্ষ্য। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সঙ্গীতজগত-এর ৫০বছর পূর্তি উপলক্ষে সঙ্গীতাঙ্গন সঙ্গীত জগতের সকল ক্ষেত্রের মানুষদের নিয়ে আয়োজন করেছেন কয়েকটি বিশেষ পর্ব। যেখানে থাকবে সঙ্গীত জগতের এই ৫০ বছরে বিভিন্ন পরিবর্তনের কথা এবং সঙ্গীত জগতের বিভিন্ন ক্ষেত্রের মানুষদের প্রাপ্তি ও অপ্রাপ্তির কথা!

সঙ্গীত জগতের অনেকের সাথে কথা বলে অনেক কথা জেনেছি। যেমন-কেউ অনেক জনপ্রিয় কাজ করেও সঙ্গীত জগত থেকে পায়নি তেমন কিছুই। তেমনই আবার কারো প্রাপ্তিটা পেতে দেরি হয়েছে ঠিকই কিন্তু প্রাপ্তির মূল্যায়ন পান নি তেমন। কারো মনে যেমন প্রাপ্তির তৃপ্তি আছে তবে কিছুটা আক্ষেপও আছে মনমত কাজ করতে না পারার এবং এই সঙ্গীত জগতের যুগের সাথে তাল মিলিয়ে পরিবর্তনের কথা নিয়েও অনেকে বলেছেন! ইত্যাদি নানান বিষয় ফুটে উঠেছে তাঁদের কথায়। সঙ্গীত জগতের যে সকল প্রবীণ-নবীন গীতিকার, সুরকার ও সঙ্গীতপরিচালক, যন্ত্রশিল্পী, কণ্ঠশিল্পী এবং ব্যান্ড শিল্পীগণ সঙ্গীতাঙ্গন-এর এই আয়োজনে থেকে সহযোগিতা করছেন সকলের জন্য রইল আন্তরিক শুভকামনা ও একরাশ লাল গোলাপের শুভেচ্ছা।
বিঃদ্রঃ-ধারাবাহিকভাবে চলবে এই বিশেষ আয়োজন এবং এখানে যাদের সাথে আগে পরে কথা হয়েছে সেভাবেই পর্যায়ক্রমে থাকবে সাক্ষাৎকারগুলো।

সঙ্গীতাঙ্গন-এর এই বিশেষ আয়োজনে আজকের পর্বে আছেন সঙ্গীত জগতের তিনজন বিশিষ্ট ব্যক্তি। তাঁদের সাথে কথা হয়েছে সঙ্গীত জগতের এই ৫০বছর পূর্তিতে সঙ্গীত জগতের পরিবর্তন নিয়ে এবং তাঁদের প্রাপ্তি ও অপ্রাপ্তি কি ছিল তা নিয়ে। তাঁদের কথাতেই জেনে নেই সেই সম্পর্কে-

সঙ্গীত শিল্পী মোঃ খুরশীদ আলম- জীবন্ত কিংবদন্তি শিল্পী খুরশীদ আলম ১৯৪৬ সালে জয়পুরহাট জেলার কালাই থানার হারুনজাও গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা এ.এফ তসলিম উদ্দিন আহমেদ, মা মেহেরুন্নেসা খানম। প্লেব্যাক সিঙ্গার হিসেবে শ্রদ্ধেয় খুরশীদ আলম অধিক জনপ্রিয়। প্রায় চার শতাধিক ছবিতে গান করেছেন তিনি। এর মধ্যে তাঁর জনপ্রিয় গানগুলির কথা লিখতে গেলে হয়ে যাবে বিরাট এক লিস্ট! দেশের প্রধান প্রধান সুরকার ও গীতিকারদের প্রায় সবাই যেমন তাঁকে দিয়ে গান করিয়েছেন, তেমনি আবার তাঁর গানে ঠোঁট মিলিয়েছেন সেই সময়ের জনপ্রিয় সব অভিনেতারা। এখনো তাঁর গান এই প্রজন্মের অনেকের মুখে মুখে ফেরে। বিশেষ করে, ‘চুমকি চলেছে একা পথে’ গানটি সেই সময়ে যে পরিমান জনপ্রিয় ছিল, এখনো তেমনই আছে। তাঁর দুটি অ্যালবাম আছে- ‘এই আকশকে সাক্ষী রেখে’ ও ‘চুরি করেছো আমার মনটা’। দুটিই একসঙ্গে ২০০১ সালে সঙ্গীতা ও সাউন্ডটেক প্রকাশ করেছে। এই কিংবদন্তি সঙ্গীত শিল্পী শ্রদ্ধেয় খুরশীদ আলম এর কাছ থেকে জেনে নেই, বাংলাদেশের সঙ্গীত জগতের ৫০ বছর পূর্তিতে সঙ্গীত জগতের গানের পরিবর্তন ও তাঁর প্রাপ্তি অপ্রাপ্তির কথা!-

সঙ্গীত জগতের পরিবর্তন’তো! স্বাধীনতার পর মনে করেন যে জিনিসটা ছিল আপনি এক মত হবেন কিনা জানি না, তখন বেতারের জন্য বা টেলিভিশনের জন্য যে গান লেখা হত সেটা হল গীতিকার, সুরকার ও শিল্পী, তাঁদের ভেতরে আত্মীয়তার মত সম্পর্ক ছিল। যেমন ধরেন, গাজী ভাইয়ের বাসায় বসে আছি, গাজী ভাইয়ের ওয়াইফ রান্না করছেন আমরা খাচ্ছি আরেকদিকে সত্য’দা গান শেখাচ্ছেন কিংবা সাহাবুদ্দিন সাহেব, দীলিপ বিশ্বাস উনারা বসে আছেন আর আমাকে বলছেন খুরশীদ এই জায়গাটা ঠিক হচ্ছে না! বা এই জাগায়টায় টিউন দাও। আবার কেউ বলছেন উচ্চারণ ঠিক কর। এই যে বলা! এটা আর এখন হয় না। এখন তো বিশেষ করে ২০০০ সালের পর থেকে যেটা হয়ে গেছে আমি নিজেই গান লিখব, আমি নিজেই সুর করব এবং নিজেই গাইব। অথচ আগে যেটা ছিল মাহমুদুন্নবী সাহেবের গলা কোন হিরোর কণ্ঠে সুট করতো তা বিবেচনা করে করা হত। যেমন নবী ভাইয়ের গান ছিল ‘গানেরই খাতায় স্বরলিপি লিখে’ ঐ গানটি নবী ভাইয়ের জন্য পারফেক্ট ছিল। ঐটা আবার মোহাম্মদ আব্দুল জব্বার সাহেবকে দিয়ে হত না! আবার আব্দুল জব্বার সাহেব যে ‘ওরে নীল দরিয়া’ গানটি গেয়েছেন তা কিন্তু মাহমুদুন্নবী সাহেবকে দিয়ে হত কিনা জানিনা তবে জব্বার ভাই যেটা দিতে পেরেছেন ওটা কেউ পারতো না। তাই এই যে লোক পচ্ছন্দ করা, এটা এখন নাই। আর এক শিল্পী সব গান গাইবে এটাও কিন্তু তখন ছিল না। আপনি দেখেন, স্বাধীনতার পর পর যে ছবিগুলো হয়েছে, যে গানে মাহমুদুন্নবী প্রয়োজন সেখানে তাঁকে নিয়েছে। যেখানে আব্দুল জব্বার সাহেবকে প্রয়োজন সেখানে তাঁকে নিয়েছে এবং আব্দুল হাদী সাহেবকেও যেখানে প্রয়োজন সেখানে নিয়েছে। বাংলাদেশে দু’জন শিল্পী মারা গেছেন! একজন হলেন মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী আরেকজন খন্দকার ফারুখ আহমেদ। তাঁরা যে গান গেয়েছেন, সেটা রাজ্জাক সাহেবের লিপেই হোক আর অন্য যে কোনো নায়কের লিপেই হোক, ম্যাচ করে গেছে। এটা খোদা প্রদত্ত কিছু জিনিস থাকে। সবকিছু তো সবার দ্বারা হয় না। আমাদের সবচেয়ে দুর্ভাগ্য হল যে, বাংলাদেশ বেতার যেটা শাহবাগে ছিল সেটা এখন বঙ্গবন্ধু মেডিকেল ইউনিভার্সিটি হয়ে গেছে! এ জায়গাটা হার্ট অব দ্যা সিটি ছিল। আর সেখানে গীতিকার, সুরকার, যন্ত্রীবাদক, গায়ক, কবি, সাহিত্যিক সবাই যেত। এটা একটা আড্ডাখানা ছিল। সেখানে সব কিছু নিয়ে চর্চা হত। এখন আর এটা নেই। তাছাড়া এখন কষ্ট করতে চায় না কেউ। আমরা একটা গানের পেছনে অনেক শ্রম দিয়েছি। এখন কেউ গান লিখতে চায় না, মোবাইল থেকে টুকে নেয়। তবে সবচেয়ে বড় ব্যাপার হচ্ছে এখন যারা শিল্পী আছে। মেল বলেন ফিমেল বলেন, দে আর ভেরি ট্যালেন্টেড! এখানে কে আমার সাথে একমত হল না হল তা জানিনা! তবে আমি যেটা বলি সত্য কথাই বলি। দে আর ভেরি এডুকেটেড। আর তারা মোটামুটি সব কিছুর সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছে। আমরা যখন গান গাইতাম তখন একটা মাইক্রোফোন ছিল এবং তিনটি মাইক্রোফোনে একটি সিনেমার গান কমপ্লিট করা হত। সেখানে এখন তিনশ মাইক চাইলে তিনশ মাইক পাওয়া যায়। এখন হয়ে গেছে প্রযুক্তিনির্ভরশীল সবকিছু। এখন মনে করেন বাংলাদেশের সবচেয়ে বেষ্ট
সিঙ্গার হাবীব ওয়াহিদ, ইমরান, কনা এরা! এটা আপনাকে হান্ড্রেড পারসেন্ট স্বীকার করতে হবে। মোহাম্মদ আব্দুল জব্বার সারাজীবন থাকবে না তেমনি মোহম্মদ খুরশীদ আলমও সারাজীবন থাকবে না! উত্থানপতন প্রতিটি ক্ষেত্রেই আছে সেটা গান, খেলাধুলা,অভিনয় সবক্ষেত্রেই আছে। এটা যারা ইজি ভাবে নিতে পারে তাঁরা কিন্তু শান্তিপূর্ণ ভাবে পৃথিবীতে বেঁচে থাকে এবং কষ্ট কম পায়। এখনকার যে শিল্পীরা আছে তাঁরা খুবই মেধাবী এবং শিক্ষাদীক্ষা সবকিছু ভাল বাট! দে আর নট গেটিং এনি গার্জিয়ান। তারা আসছে এতিমের মত। কি করতে হবে না করতে হবে কিছুই জানে না। গানের মীরই বুঝে না। একজন শিল্পী আমাকে বলল, স্যার, মীর! এটা আবার কি ? অথচ সে গায় ভাল, গানের গলা ভাল কিন্তু গানের যে মীর আছে তাইই বুঝে না। যুগে যুগে তো সিনিয়র লোক একজন থাকবেই। তাঁদের কাছ থেকে তো জানা উচিত বা শিক্ষা গ্রহণ করা উচিত। এখন যেমন ধরেন আজাদ রহমান সাহেব নেই, আলাউদ্দিন আলী নেই। যারা নিজেরাই একেকজন লিজেন্ড ছিলেন। এখন যারা আছে তারা হয়তো বিশ বছর পর লিজেন্ড হবে। তখন বলতে পারবে এটা ঠিক, এটা ঠিক না। অথচ আজকাল ছেলেমেয়েদের একটা প্রবনতা হচ্ছে,
আমার কারো কাছে শেখার দরকার নাই। আমার মোবাইল হল বড় শিক্ষক। তার চেয়ে বড় শিক্ষক ল্যাপটপ এবং ল্যাপটপের চেয়ে বড় শিক্ষক কম্পিউটার। এখন কেউ কষ্ট করতে চায় না। তবে হ্যাঁ, একটা জিনিস তখন ছিল না তা হল পারিবারিক সাপোর্ট! এখন সেটা আছে। তাছাড়া আগে কিন্তু মাইক ধরে কিভাবে গাইতে হবে বিশেষ করে কিছু শব্দ তা শেখানো হত না, এখন তো মাইকে নেট থাকে। আগে শ ব ভ উচ্চারণ করার সময় কিভাবে মাইক ধরবে তা শেখানো হত না। তারপর আগে যে দেশের গান হত, গান শুনলেই সিনেমার মত দৃশ্য, চোখে ভেসে উঠত যেমন নদী, নৌকা, পাল, মাঝি, গ্রাম। এখন আর ঐরকম নেই। এখন ব্যাক্তিকেন্দ্রিক হয়ে গেছে সবকিছু। অমুকে গান লিখলে আমি সেই গান গেয়ে সুপার ডুপার হয়ে যাব। সেই গানটির আসলেই ভাষা ছন্দের মিল আছে কিনা! সেই ভাবনা নেই। ঐ অমুকের নাম আছে তাকে দিয়েই আমার চলবে, এই রীতিতে হচ্ছে সব। এই জিনিসটাই আমাদের আরও ক্ষতি করছে। আমাদের গানবাজনা খুব ভাল ছিল তবে এখন যারা আসছে তারাও ভাল করবে, নিশ্চয়ই ভাল করবে। এই অবস্থা থাকবে না। আমি ব্যক্তিগতভাবে খুব আশাবাদী। একজন না একজন, এর হাল ধরবেই। হয়তো একটু দেরীতে হবে।

আর প্রাপ্তি অপ্রাপ্তির কথা বলছেন! আমি কখনোই দুঃখ ব্যাথার কথা বলি না। কারণ আমার দুঃখ ব্যাথা খুব কম। তাছাড়া দুঃখ কার কাছে করবো ? সেটা হল যে,আমার হিসাবে আমি এই পর্যন্ত সাড়ে চার’শ কম বেশী হতে পারে, ছবিতে গান করেছি। একটা ফিল্মে ছয়টা গান গেয়েছি, সিনেমাটির নাম ছিল ‘লালুভুলু’। সবাই বলল, তুমি এত গান গাইলা আর একটাও জাতীয় পুরস্কার পাইলা না! আমি বললাম, আমার ‘মাগো’, ‘বন্দী পাখির মত’, ‘চঞ্চলা নয়নে বল না কি ভাবছো ?’, ‘পাখির বাসার মত দুটি চোখ তোমার’ গানগুলি বাংলাদেশের ১৮কোটি মানুষের ঠোঁটে আছে এটাই চরম পাওয়া। পুরস্কার কেন দিল না! তা তো আমার জানার দরকার নাই। আর আমি আল্লাহ্‌’র কাছে শোকর আদায় করি যে, আমি জীবনে ৩টি পুরস্কার পেয়েছি। একটা হল, চ্যানেল আই আজীবন সম্মাননা। আরেকটি হল সিটি ব্যাংক নিউইয়র্ক থেকে এবং ২০১৮ সালে একুশে পদক পেয়েছি। এটার যেন ইজ্জত রাখতে পারি, আল্লাহ’র কাছে এই প্রার্থনা করি। আর বেশী লোভ করা উচিত না, লোভে পাপ পাপে মৃত্যু। আমি কে তার বিচার যদি করেন! তাহলে বলবো ১৮ কোটি মানুষের মধ্যে পাঁচ কোটি লোক আমার গান পচ্ছন্দ করে। আর অপ্রাপ্তি যদি বলেন। এটা চাওয়ার শেষ নাই। আপনাকে সত্য কথা বলি যে, যার স্বাধীনতার পুরস্কার পাওয়া দরকার, সে হয়তো মারা গেছে। আমি সরকারকে বলতে চাই এবং সবাইকে বলতে চাই যে, মরণোত্তর পুরস্কার দিয়েন না। আর ঐ আত্মাটাকে আর কষ্ট দিয়েন না। যা তাঁর জীবদ্দশায় দিতে পারেন নাই, মরণোত্তর দিয়ে কোনো লাভ আছে ? তাই আমি জীবনে শ্যামল মিত্রের এই গানটি হৃদয়ে ধারণ করে নিয়েছি- ‘সেই বাঁশরও নেই! বাঁশুরিও নেই ভোর যে হয়ে এল’। অপ্রাপ্তির কিছু নেই। গান নিয়ে ছিলাম, এখনো গান নিয়েই আছি।

সঙ্গীত শিল্পী আবিদা সুলতানা- আবিদা সুলতানা বাংলাদেশের পঞ্চগড় জেলার একটি সংস্কৃতিমনা পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। সংস্কৃতিমনা পরিবারে জন্ম হওয়ায় শৈশব থেকেই তিনি নাচ গানসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত ছিলেন। ছোট বেলায় গানের চেয়ে নাচের প্রতি তাঁর বেশী ঝোঁক ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত গানের মানুষ হয়েই তিনি সবার মন জয় করে নিয়েছেন। আবিদা সুলতানা বাবু রাম গোপাল মহন্ত, ওস্তাদ ফুল মোহাম্মদ, আক্তার সাদমানি, বারীন মজুমদার, ওস্তাদ নারু এবং ওস্তাদ সগীরউদ্দিন খান থেকে গানের তালিম নিয়েছেন। রবীন্দ্র সঙ্গীত এবং নজরুল সঙ্গীত এই দুটোর ওপর তালিম নিলেও আধুনিক গানেই তিনি বেশি মনোযোগী ছিলেন। ১৯৬৮ সালে টেলিভিশন ও বেতারের তালিকাভুক্ত শিল্পী হন তিনি। তখন থেকেই এই দুই মাধ্যমে নিয়মিত গান পরিবেশন করে আসছেন। অডিও কিংবা চলচ্চিত্র দুই ভুবনেই তিনি গান করেছেন। পেয়েছেন শ্রোতাদের ভালোবাসা। ১৯৭৪ সালে চলচ্চিত্রের গানে তাঁর যাত্রা শুরু। সে থেকে এই পর্যন্ত তিনি ৪৫০টির বেশী চলচ্চিত্রের গানে কণ্ঠ দিয়েছেন। আবিদা সুলতানার গাওয়া জনপ্রিয় গানগুলো হল- ‘বিমূর্ত এই রাত্রি আমার’, ‘একটা দোলনা যদি’, ‘হৃদয়ের অচেনা দুটি নদী’, ‘হারজিৎ চিরদিন থাকবেই’, ‘হাতে থাক দুটি হাত’, ‘মধু চন্দ্রিমার এই রাত’, ‘আমাদের দেশটা স্বপ্নপুরি’, ‘একি বাঁধনে বল’, ‘আমি সাত সাগর পাড়ি দিয়ে’, ‘রঙিলা পাখিরে’, ‘আমি জ্যোতিষীর কাছে যাব’, প্রভৃতি। এত গুলো জনপ্রিয় গান থাকতেও, কেন যে এই গুনী শিল্পী একটিও জাতীয় পুরস্কার পেলেন না, অবাক ব্যাপার! যতদুর জানি, তাঁর ‘বিমূর্ত এই রাত্রি আমার’ গানের জন্য তাঁকে জাতীয় পুরস্কারে মনোনীতও করেছিল এবং রাতে বিভিন্ন পত্রিকা থেকে তাঁকে অভিনন্দনও জানিয়েছিল। তারপর সকালে শোনা যায় তাঁকে না! অন্য কাউকে সেই পুরস্কার ভূষিত করার কথা বলা হয়েছে। এটা হয়তো আমাদের দেশেই সম্ভব! তবে উনার কতটুকু আক্ষেপ আছে এই বিষয়ে জানি না! তবে তাঁর ভক্ত শ্রোতাদের মধ্যে এই গানটিতে পুরস্কার না পাওয়ার কারণে আক্ষেপ রয়েই গেছে। যাই হোক! আমরা তাঁর কাছ থেকে জেনে নেই, সঙ্গীত জগতের ৫০ বছর পূর্তিতে গানের কি ধরণের পরিবর্তন এসেছে এবং সঙ্গীত জগতে এত বছরে তাঁর প্রাপ্তি অপ্রাপ্তির কথা-

আসলে পরিবর্তনটা যেটা হয়েছে, ভাল খারাপ সবই হয়েছে। সব পরিবর্তনেই সেটা থাকে, ৫০ বছরের মধ্যে অনেক পরিবর্তন হয়েছে। তার প্রয়োজনও ছিল কারণ আমরা যদি এখন ৫০ বছরের আগের গান গাইতে থাকি, কেউ কি সেই গান শুনবে ? কেউ শুনবে না। মানুষের রুচি বদলাচ্ছে। সারা পৃথিবীর মধ্যেও সেই প্রভাবটা পড়েছে। যাই হোক! ভাল দিকও আছে আবার খারাপ দিকও আছে। তবে আমরা ভাল দিকগুলোই গ্রহণ করবো। খারাপ দিকগুলো তো সবসময়ই সবাই বর্জন করে। তবে সেটাই করবো। ভাল যেটা হয়েছে, আমার মনে হয় অনেক ভাল হয়েছে এবং সবকিছু ভালোর দিকেই যাবে আশা করি। আর প্রাপ্তি অপ্রাপ্তির কথা বলছো! আমি কিন্তু বেসিক্যালি একজন সুখী মানুষ। আমি সুখী থাকতে পছন্দ করি। এটলিস্ট, সুখী মানুষকে দুঃখটা দেখাতে চাই না। আমার দুঃখটা কম। আমি পরিপূর্ণ একজন সুখী মানুষ এবং আমার গানের বেলায়ও তাই। আর সবচেয়ে বেশী যেটা পেয়েছি! খ্যাতি পেয়েছি, যশ পেয়েছি। তবে যশ পেয়েছি বললে ভুল হবে! আমাদের সময় গানে প্রচুর সম্মান ছিল এবং প্রচুর ভালোবাসা ছিল, সেটাই পেয়েছি। যার মূল্য কিছু দিয়ে হয় না। যেমন আমি জীবনে কোনো ন্যাশনাল এ্যাওয়ার্ড পাইনি। অথচ অনেকবার আমি আমার যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছিলাম। কোনো ন্যাশনাল এ্যাওয়ার্ড না, না একুশে পদক! না স্বাধীনতার পদক! কোনোটাই আমার জীবনে পাইনি। তো তার জন্য দুঃখ ছিল কিন্তু মানুষের এত ভালোবাসা পেয়েছি যে, এগুলো ভুলিয়ে দিয়েছে। প্রচুর মানুষের ভালোবাসা পেয়েছি তাই এগুলো কোনো ব্যাপার না আমার কাছে। আর এখন তো সবকিছু দামে বিক্রি হয়। তো যাই হোক! আমি যা পেয়েছি তাতেই আমি খুব স্যাটিস্ফাইড। আমি নতুন নতুন কিছু শিখছি সবসময়ই। আমি কোনও নতুন ছেলেমেয়ে গান করলেও শুনে দেখি ও কি করছে! এবং কি পাওয়া যাবে ওর কাছ থেকে। আমি সবখান থেকেই শিখছি। আমি যখন সমুদ্রের পাড়ে যাই তখন কাউকে কথা বলতে দেই না। আমি সমুদ্রের আওয়াজটা শুনি কারণ ওখানে একটা সুর আছে, ছন্দ আছে এবং তাল আছে। আমি আরেকটা জিনিস করি, আমার কাছে সারা পৃথিবীর মিউজিক আছে। আমি সেগুলো মন দিয়ে শুনি আর নতুন নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন করছি। আমরা নতুনত্বের দিকে যতই যাচ্ছি আর ততই সেগুলো পাচ্ছি। আর আমি মনে করি, আমাদের নতুন ছেলেমেয়েরা দেশকে যা দিচ্ছে! তা খুব ভাল দিচ্ছে। আমি খুব আশাবাদী। আর আক্ষেপের কথা বলছো ? একজন শিল্পীর একটা না একটা সময় মনে হয়, যেমন যে গানটা গত কালকে গাইলাম! আজকে মনে হবে এই গানটি এভাবে গাইলে তো হত, গানের সুরটা এভাবে লাগালাম না কেন। এর উচ্চারণ এভাবে দিলাম না কেন। এটা কিন্তু সবসময়ই মনে হতে থাকে যে, এই গানটা আরেকবার গাইলে আরও ভাল গাইতে পারতাম বা এই ধরণের সুরে আরেকটা গান গাইলে, আরো ভাল হত! এই আক্ষেপটা থাকবেই এবং সবসময়ই থাকবে।

সঙ্গীত শিল্পী কামাল আহমেদ – কামাল আহমেদ বাংলাদেশের একজন জনপ্রিয় রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী। তিনি বর্তমানে বাংলাদেশ বেতার এর পরিচালক (অনুষ্ঠান) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। কামাল আহমেদ ১৯৬৫ সালে, ৯ই সেপ্টেম্বর পাবনা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় ছায়ানটের সাথে যুক্ত হন। সেখানে তিনি ওয়াহিদুল হক, সনজিদা খাতুন, ইখতিয়ার ওমরসহ প্রমুখ রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পীর সান্নিধ্য পান। তিনি শাস্ত্রীয় সঙ্গীতে ওস্তাদ ফুল মোহাম্মদের কাছে তালিম নেন। কামাল আহমেদের ১৮টি অ্যালবামের মধ্যে রবীন্দ্রসঙ্গীতের উপর অনেক অ্যালবাম রয়েছে। তাঁর অ্যালবামগুলো হল- সাদা মেঘের ভেলা (রবীন্দ্রসঙ্গীত, ২০০৬), নানা রঙের দিনগুলি (রবীন্দ্রসঙ্গীত, ২০০৮), পথ চাওয়াতে আনন্দ (রবীন্দ্রসঙ্গীত, ২০০৯), ফাল্গুনের দিনে (রবীন্দ্রসঙ্গীত, ২০১০), নিঃশব্দ চরণে (রবীন্দ্রসঙ্গীত, ২০১১), গোধূলি (কিশোর কুমারকে উৎসর্গকৃত, ২০১২), কান পেতে রই (রবীন্দ্রসঙ্গীত, ২০১৩), বেঁধেছি আমার প্রাণ (রবীন্দ্রসঙ্গীত, ২০১৪), ভরা থাক স্মৃতি সুধায় (রবীন্দ্রসঙ্গীত, ২০০৮), অধরা (আধুনিক,২০১৬), গানের তরী (তিন কবির গান, ২০১৬), বালুকা বেলায় (হেমন্ত কুমারকে উৎসর্গকৃত, ২০১৬), নিদ্রাহারা রাতের গান (রবীন্দ্রসঙ্গীত, ২০১৬), দুরের বন্ধু (রবীন্দ্রসঙ্গীত, ২০১৬), মহাকাব্যের কবি (ভারত, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে উৎসর্গকৃত, ২০১৬), একুশের স্বরলিপি (ভাষাশহীদদের স্মরণে, ২০১৬), নীল সমুদ্র (আধুনিক দ্বৈত প্রেমের গান, ২০২০) এবং মহাকাব্যের কবি (বাংলাদেশ, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে উৎসর্গকৃত, ২০২০)। তাছাড়া তিনি বিভিন্ন পুরস্কার লাভ করেন যেমন-সার্ক সংস্কৃতি সমিতি পুরস্কার, বঙ্গবন্ধু গবেষণা ফাউন্ডেশন পদক ২০১৫, অদ্বৈত মল্লবর্মণ স্মৃতি স্মারক সম্মাননা ২০১৭, বীর শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত পুরস্কার ২০১৭, ফোবানা পুরস্কার ২০১৭, রাজশাহী বেতার শিল্পী সংস্থা পুরস্কার ২০১৮ এবং জাতীয় রবীন্দ্র গবেষণা ও চর্চা কেন্দ্র সম্মাননা ২০১৯। এখন তাঁর কথাতেই জেনে নেই, বাংলাদেশের সঙ্গীত জগতের ৫০ বছর পূর্তিতে সঙ্গীত জগতের পরিবর্তন ও তাঁর প্রাপ্তি অপ্রাপ্তির কথা!-
আমার কোনো অপ্রাপ্তি নেই। যা আছে সবই প্রাপ্তি। অপ্রাপ্তি বলে কিছু নেই। যেহেতু স্বাধীনতা রিলেটেড প্রশ্ন! সেহেতু বলবো আমি একটি দেশ পেয়েছি। একটি স্বাধীন ভূখণ্ড পেয়েছি। নিজের ভাষা পেয়েছি। সবকিছু নিজের মত করে বিকাশের পরিবেশ পেয়েছি। যেহেতু আমি বাঙ্গালী, তাই আমার যে সামাজিক উন্নয়ন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন সবকিছুই আমার ভাবনায় আসে। আমি যে আজকে বাংলাদেশ বেতারে পরিচালকের চেয়ারে বসে আছি সেটাও তো স্বাধীনতার ফসল তাই না! সুতরাং সেটাই আমার পাওয়া বা প্রাপ্তি। সেই হিসাবে আমাদের সঙ্গীত তার নিজস্ব ধারায় বিকাশ ঘটেছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে সেই জায়গায় অনেক ছোট। ওভারঅল, সঙ্গীতের অনেক বিকাশ হয়েছে। অনেক পরিবর্তন এসেছে। ব্যক্তিগতভাবে আমিও অনেকদূর এগিয়েছি। তবে হ্যাঁ, সামাজিকভাবে যদি সঙ্গীতের কথা বলি! সেই জায়গায় আমরা ব্যর্থ। সেই জায়গায় আমরা কোনো সিস্টেমে মধ্যে আসতে পারিনি। গানের কোনো প্লাটফর্ম নেই। একজন শিল্পী তাঁর গানটি কোথায় উপাস্থাপন করবে এবং তাঁর যে একটা প্রোডাকশন করতে গেলে যে কস্টিউম! সেটা কোথার থেকে করবে ? সেই বাজারটাই নেই। এই একটাই হচ্ছে নেগেটিভ সাইড মিউজিকের ক্ষেত্রে। আর পুরোটাই পজিটিভ। অনেক বিকাশ হয়েছে সঙ্গীত জগতের। আর আমার ব্যক্তিগত প্রাপ্তি অনেক। আমার ১৮টি সিডি প্রকাশ হয়েছে এবং ১৯ নম্বর সিডির কাজ চলছে। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে দুটি কাজ করেছি। এখন তিন নম্বর কাজ করছি বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে। একুশের গান নিয়ে কাজ করেছি। মৌলিক অ্যালবাম নিয়ে কাজ করেছি। রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে কাজ করেছি। এগুলো সবই আমার প্রাপ্তি। আমি মনে করি যে বাংলা গান অনেকদুর এগিয়েছে এবং ব্যক্তিগতভাবে আমিও এগিয়েছি। যেটা বলবো যে, বিশ্বায়নন হয়েছি। তবে একটা জিনিসই বলবো বিপনন-মার্কেটিং বা প্ল্যাটফর্ম বলেন, সেই জায়গায় ঘাটতি আছে। সেই জায়গাটায় আমাদের অস্তিত্বের সংকট ঘটেছে। যে গান গাইতে পারেনা সেও একটি গান ইউটিউবে দিচ্ছে এবং একজন গুণী শিল্পীর গানও ইউটিউবে যাচ্ছে। এখানে নিয়ন্ত্রণ করার জায়গা নেই! এই নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে আমরা কিছু করতে পারি কিনা! সেই বিষয়টা নিয়ে আপনারাও ভাবুন। যেহেতু আপনারা মিউজিক নিয়ে কাজ করেন, আপনাদের ভাবনাও সার্থক হোক। আপনি বলছেন প্রযুক্তি আসার আগে একুস্টিক মিউজিক বেশী ব্যবহার হত আর এখন কম হচ্ছে এবং এখন টিউনার ইউজ করে ভয়েস চেঞ্জ করে গান করছে অনেকেই! প্রথমেই বলবো, প্রযুক্তি যতই আসুক, এখনও ভাল গানে একুস্টিকের ব্যবহার হচ্ছে। সুতরাং ভাল গানে যেখানে একুস্টিকের প্রয়োজন, সেখানে একুস্টিক ব্যবহার হচ্ছে। প্রযুক্তি থাকলে যে একুস্টিক থাকবেনা, প্রযুক্তি তো একুস্টিক নিষেধ করেনি। তাই প্রযুক্তিকে আমি দোষ দিতে চাই না, যেহেতু আমাকে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। তবে হ্যাঁ, আমাদের দেশে প্রযুক্তিতে সাউন্ড কোয়ালিটি বা এডিটিং কোয়ালিটিকে ডেভেলপ করতে হবে। আমি যেটা বলি, আমাদের প্লাটফর্মের দরকার আছে। আমাদের দেশের সিডি দোকান বন্ধ হয়ে গেছে। সিডির দোকান এখন হয়ে গেছে জুতার দোকান। সেটি কেন হয়েছে ? যেহেতু আমাদের সিডি কিনতে যাওয়ার প্রবণতা নেই! সারা পৃথিবীতে এখনো সিডির দোকান আছে। এমনকি আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে এখনো বড় বড় দোকান আছে। সেখানে পাঁচ হাজার, সাত হাজার, দশ হাজার, পনের হাজার গিফট সেট এখনও তৈরি হচ্ছে।
সম্প্রতি হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের একটা গোল্ডেন সেট তৈরি হচ্ছে। অথচ আমাদের দেশে আমরা কারো জন্মদিনে বা অন্য কোনো অনুষ্ঠানে সিডি গিফট করি না, আমরা অন্য কিছু গিফট করি। তাই আমি মোটেও মনে করতে চাই না, প্রযুক্তি আমাদের ক্ষতিগ্রস্ত করছে বরং আমরা আমাদের ক্ষতিগ্রস্ত করেছি। সেই জায়গা থেকে প্রযুক্তি আমাদের পিছিয়ে দেয় নি বরং সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে গেছে। আর যারা ভয়েস চেঞ্জ করে গান করে, আমি ঐগুলোকে গানের কোনো পর্যায়েই ধরছি না। এখন কেউ যদি ভয়েস চেঞ্জ করে তাহলে তো তাঁর নিজস্ব পরিচয়ই থাকছে না। লতা মুঙ্গেশকর কখনোই তাঁর ভয়েস চেঞ্জ করবে না, রুনা লায়লা করবে না, সামিনা চৌধুরীও করবে না।
যার গানের ভয়েস আছে সে ভয়েস চেঞ্জ করবে না। যার ভয়েস নাই সে নাকি টিউনার ইউজ করে! টিউনার ইউজ করলে অটোমেটিক তার ভয়েস বিকৃত হয়ে যায়। যার ফলে রহিম করিম যে যা ইচ্ছে তাই দিচ্ছে ইউটিউবে। সেজন্যই ইউটিউবের মান নিয়ন্ত্রণের বোর্ড থাকা দরকার। পৃথিবীর প্রত্যেকটি কান্ট্রিতে সেই বোর্ডের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়ে গান আসবে ইউটিউব চ্যানেলে। তাই প্রযুক্তির ব্যবহারে সৎভাব থাকতে হবে। গান নিয়ে নাড়াচাড়া না করলে কেউই শিল্পী হতে পারবে না।

Related Articles

Leave a reply

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

18,780FansLike
700SubscribersSubscribe
- Advertisement -

Latest Articles

betwinner melbet megapari megapari giriş betandyou giriş melbet giriş melbet fenomenbet 1win giriş 1win 1win